মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ় ১৪২০; ১৮ জুন ২০১৩;
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারঃ   মুহুর্তের সংবাদ :
নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস সি
নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস সি

০৪ মার্চ, ঢাকা :: বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে ১৭ কোটিরও বেশি মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত৷ আফ্রিকা ও এশিয়ায় এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়৷ এই ভাইরাস লিভারে সংক্রমণ সৃষ্টি করে, যা থেকে কঠিন অসুখও দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিস সি রোগটি সম্পর্কে মানুষের সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলির মধ্যে সি ভাইরাস সবচেয়ে মারাত্মক বলে মনে করা হয়। এই অসুখটিকে চিকিত্সা বিজ্ঞানে নীরব ঘাতক বলেও অভিহিত করা হয়। তাই এই ভাইরাসের মোকাবেলায় মাথা ঘামাচ্ছেন এখন গবেষকরা।

বাংলাদেশেও বহু মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত

বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ থেকে ৬ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বাহক। বিশেষ করে পেশাদার রক্তদাতাদের মধ্যে অনেকেই এই ভাইরাস বহন করেন৷ হেপাটাইটিস সি'র ভাইরাস সাধারণত দূষিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই শেভিং রেজার, ব্লেড, টুথব্রাশ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ইত্যাদি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। একই সুচ দিয়ে মাদক সেবন করলেও বিস্তৃত হতে পারে হেপাটাইটাইস সি ভাইরাস।

সাধারণত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম কয়েক বছর সুস্পষ্ট কিছু বোঝা যায় না। শরীর ম্যাজম্যাজ করা, বমি বমি ভাব, চোখ জ্বালা করা, পেশিতে যন্ত্রণা, এই সব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বলে মনে করা হয়। রোগীদের খাওয়ায় রুচি কম থাকে, লেগে থাকে পেটের অসুখ। এই সব উপসর্গ থেকে লিভার সিরোসিস, লিভার অকার্যকর হয়ে যাওয়া কিংবা লিভার ক্যান্সারের মত কঠিন রোগও দেখা দিতে পারে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার মত টিকা বের হয়নি৷ এক ধরনের প্রোটিন বা ইন্টারফেরন দিয়ে থেরাপি দেয়া হয় রোগীদের৷ এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন ওষুধ ছাড়পত্র পেয়েছে, যেটি আরো কার্যকর বলে মনে করা হয়।

 

নতুন থেরাপি আশা জাগাচ্ছে

পদার্থটির নাম টেলাপ্রেভির। এতদিন পর্যন্ত ইন্টারফেরনের সঙ্গে রাইবাভাইরিন নামে এক ধরনের ভাইরাস দমনকারী ওষুধ যুক্ত করে থেরাপি দেয়া হত। নতুন ওষুধ টেলাপ্রেভির প্রচলিত থেরাপির বিকল্প হবে না, বরং পরিপূরক হবে৷ তার মানে রোগটির বিরুদ্ধে ত্রিমুখী আক্রমণ করা হবে৷ কয়েকটি সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হানোফার শহরের মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হাইনার ভেডেমায়ার বলেন, ‘‘প্রচলিত থেরাপিতে ৫০ শতাংশ রোগী আরোগ্য লাভ করেন৷ কিন্তু নতুন ওষুধকে পরিপূরক হিসাবে নেয়ার পর ৭৫ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। তার মানে প্রায় ৩০ শতাংশের মত বেশি রোগী উপকৃত হয়েছেন নতুন থেরাপিতে। বলা যায়, প্রতি পাঁচ জনে চার জন থেরাপির শেষে সুস্থ হতে পারেন৷ অন্য আরেক বিশ্লেষণে ৮০ শতাংশ রোগীর আরোগ্য লাভের কথা বলা হয়েছে।''

 

জটিল ও ব্যয়বহুল

প্রচলিত পদ্ধতির ইন্টারফেরন-থেরাপিটা এমনিতেই বেশ জটিল৷ প্রতি সপ্তাহে একবার ইঞ্জেকশন নিতে হয়৷ তার ওপর ইন্টারফেরনকে শক্তিশালী করার জন্য আরেক ওষুধ ট্যাবলেটের আকারে দিনে দুবার খেতে হয়। এই ভাবে ৪৮ সপ্তাহ বা এক বছরের মত চালাতে হয় থেরাপি৷ এর সঙ্গে টেলাপ্রেভির যুক্ত হলে থেরাপির সময়টা কমে ২৪ সপ্তাহে দাঁড়াবে। যে সব রোগী প্রচলিত পদ্ধতিতে ভাল হননি, তাদের মধ্যেও ৩০ শতাংশ নতুন থেরাপিতে ভাল হয়েছেন। তবে এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

প্রফেসর ভেডেমায়ার জানান, ‘‘টেলাপ্রেভিরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। শরীরের অর্ধেকই আক্রান্ত হতে পারে। চামড়া লাল হওয়া থেকে শুরু করে ফোসকা পড়া এসব কিছুই লক্ষ্য করা যায়৷ অনেক সময় দেখা যায় ডায়রিয়া। ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এটা হতে পারে৷ তা হলে এই চিকিত্সা বন্ধ করে দেয়া উচিত।''

অন্যান্য ওষুধের সঙ্গেও এর মিথস্ক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন বাতের ওষুধের সঙ্গে এটি ব্যবহার করলে। প্রফেসর ভেডেমায়ারের ভাষায়, ‘‘এই থেরাপির জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন৷ থেরাপিটা বেশ জটিল, শুধু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্যই নয়। এই থেরাপি সঠিক ভাবে না চালালে কিংবা ওষুধ নিয়মিত না খেলে এক ধরনের প্রতিরোধক সৃষ্টি হতে পারে। যা রোগীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক৷''নতুন থেরাপিতে নিয়মটাও বেশ কঠোর৷ ৮ ঘন্টা পর পর ক্যাপসুল খেতে হয়৷ এজন্য রোগীকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল হতে হয়। এই ওষুধকে খুব সস্তাও বলা যায় না। সপ্তাহে খরচ পড়ে এক হাজার ডলার। ছয় মাসের খরচ ১৭ হাজার ইউরোর মত৷ বলা যায়, হেপাটাইটিস সি দমন করার জন্য নতুন থেরাপি বের করা গেলেও দামটা আকাশচুম্বী। তাই এই রোগে আক্রান্ত সব রোগীর চিকিত্সা এই থেরাপির মাধ্যমে দেয়া এখন পর্যন্ত সম্ভব নয়। ওয়েবসাইট।
CommentAdd Your Comment
শীর্ষ সংবাদ


প্রচ্ছদ | ৬৪ জেলার সংবাদ | রেডিও সংবাদ| গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট