বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২০; ২০ জুন ২০১৩;
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারঃ   মুহুর্তের সংবাদ :
দানব আনতে তিনিই বাধ্য করেছিলেন
দানব আনতে তিনিই বাধ্য করেছিলেন

১৯  মে, ঢাকা :: নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দানব অ্যাখ্যায়িত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রধান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গতকাল বিকল্প ধারার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একের পর এক ভুল করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দানব বলেছেন। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন, তার নেতৃত্বেই ওই দানব সরকারকে আনতে বাধ্য করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপে আর
দানব দেখতে চায় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপশাসন ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি আমলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আমি তাকে (শেখ হাসিনা) বলবো, প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে বুঝেশুনে কথা বলুন।
হরতালে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বিরোধী দল বিএনপিকেও বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,
সরকারের নির্যাতন এমন পর্যায় পৌঁঁছেছে যে বিরোধী দলকে বাধ্য হয়ে হরতাল দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা পরামর্শ দেব- হরতালের বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। কারণ হরতালে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট হয়।
সাবেক এই বিএনপি নেতার মতে, বিরোধী দল আগামীকাল যে গণঅনশন কর্মসূচি দিয়েছে হরতালের বিকল্প হিসেবে তা একটি
ভাল কর্মসূচি
এতে মানুষ স্বস্তি পাবে। হরতালের বিকল্প হিসেবে রাতে মিছিলও হতে পারে, যোগ করেন তিনি।
বিকল্প ধারা বাংলাদেশের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ হওয়ার পর বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০৪ সালে এ সংগঠন গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান । বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,
আমাদের একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। যাতে দেশে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বুঝতে পারে, তাদের বাইরেও বিকল্পশক্তি আছে। আমরা চাই- দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপিকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
এখন বিরোধী দলের নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের বলব, প্রথমে আপনারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। বলুন- আপনারা ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি করবেন না। অতীতের ভুল স্বীকার করে জনগণে আস্থা পাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করুন। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিশীল। পুঁজিবাজার ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশে এ রকম একজন অর্থমন্ত্রী থাকলে আগামীতে অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কে জানে। বিরোধী দলের হরতালে নেতা-কর্মীদের ওপর ‘পুলিশি নির্যাতনেরও’ সমালোচনা করেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আজ দেশের গণতন্ত্র ও অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থরক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আমরা বিকল্প ধারাসহ সবার সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’ পুরনো সহকর্মীদের গড়া বিকল্প ধারার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে নিজের দলের প্রত্যাশা জানিয়ে নজরুল বলেন, ‘আমরা আশা করি- বিকল্প ধারা জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একে আরও বেগবান করবে।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলব, ভালভাবে দেশ চালান। বিরোধী দলের জাতীয় নেতাদের ছেড়ে দিন। ক্ষমতায় থেকে যেভাবে বিরোধী দলের ওপর দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে, তা কোনভাবেই দেশের মানুষ ভাল চোখে দেখছে না।’ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ফরওয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমিন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।
সূত্র : বিডিনিউজ

CommentAdd Your Comment
শীর্ষ সংবাদ


প্রচ্ছদ | ৬৪ জেলার সংবাদ | রেডিও সংবাদ| গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট