চার দিকে পুলিশ আতঙ্ক!!!
৩১ মে, ঢাকা :: পুলিশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চার দিকে। আর সরকারের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য এ আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে তরুণীর শ্লীলতাহানি, রাস্তায় সাংবাদিকদের পিটিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে ফেলা, প্রকাশ্যে ছিনতাই-চাঁদাবাজি, নিরপরাধ মানুষকে দুর্বৃত্ত সাজিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলাসহ নানা অপরাধকর্মে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্য। অন্য দিকে, অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় অসৎ পুলিশ সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আবার কোনো কোনো ঘটনায় অপরাধী পুলিশ সদস্যরা শাস্তির বদলে পুরস্কৃত হচ্ছেন।
গত কয়েক দিনের পুলিশ সদস্যদের আচরণ পুরো পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পুরো বাহিনী সম্পর্কেই মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভীতিরও সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হলেও পুলিশের বাস্তব কর্মকাণ্ড এই বাহিনীকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কিছু চিহ্নিত পুলিশ সদস্য গোটা বাহিনীকে দুর্নামের মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকার আদালতপাড়ায় পুলিশের কতিপয় সদস্য যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে অনেকেই হতবাক হয়েছেন। বিচারপ্রার্থী এক তরুণীকে পুলিশ কাবে নিয়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক ও আইনজীবী পুলিশ কাবে গেলে সেখানে কোতোয়ালি জোনের এসি এবং কোতোয়ালি থানার ওসি সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের নির্মমভাবে পেটানো হয়। সেখান থেকে নির্যাতিতা ওই তরুণী এবং আইনজীবীদের পুলিশের গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নেয়া হয়। সেখানেও তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রাতে মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল থানায় গিয়ে ওই তরুণী এবং তার বাবা-মাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন। তরুণীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় দুই এসআইকে কোজ করা হয়েছে।
এ ঘটনার আগে গত শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় দৈনিক প্রথম আলোর তিন সাংবাদিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে পুলিশ। সেখানে মহিলা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ছবি তুলতে গেলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তিন সাংবাদিকের হাত-পা গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও জোনের এসি শহীদুল ইসলামসহ ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়েছেন থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আহমেদ কবির।
গত ১১ মে রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডে বাসচাপায় নিহত হন সাংবাদিক বিভাস চন্দ্র সাহা। সেখানে পুলিশ প্রতিবাদরত সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় ও লাঠিপেটা করে। এ ঘটনার নায়ক ধানমন্ডি থানার ওসি মনিরুজ্জামান এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই মনিরুজ্জামান ধানমন্ডির সাধারণ মানুষের জন্য এখন আতঙ্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ নানা ধরনের জঘন্য কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। গত রোববার সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোকসেদুল মোমিন বাসায় কলগার্ল নিয়ে ফুর্তি করার সময় স্ত্রীর কাছে ধরা পড়েন। ওসি সকাল থেকেই সাথী নামের ওই তরুণীকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ খবর স্থানীয় লোকজন তার স্ত্রীকে জানালে তিনি ঢাকা থেকে সিলেট ছুটে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি বাসায় পৌঁছলে ওসি মোকসেদুল মোমিন ওই কলগার্লের সামনেই তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। স্থানীয় লোকজন এ খবর জানতে পেরে ওসিকে আটকে রাখেন এবং পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জোহরা তাজউদ্দীনের নাতি রাকিব। রাস্তায় নির্যাতন করে একপর্যায়ে তাকে থানায় নিয়ে সেখানেও তাকে নির্যাতন চালায়। রাকিবের মামা সোহেল তাজ বর্তমান সরকারেরই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পুলিশ তার কথা শুনে আরো ক্ষেপে যায়। একপর্যায়ে তাকে থানা হাজতে বন্দী করে রাখা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরও রাকিবকে পুলিশ তিন ঘণ্টা আটকে রাখে। রাকিবের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি উচ্চতর আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ ঘটনার পর গুলশান জোনের এসি, গুলশান থানার ওসি শাহ আলম এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বদলি ও প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশের গুরুতর এই অপরাধের পর ওসি শাহ আলমকে গুলশান থেকে বদলি করে ডিএমপির এক নম্বর থানা রমনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শাহ আলমের বাড়ি একটি বিশেষ জেলায় হওয়ায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাতি তার থানায় মারধরের শিকার হওয়ার পরও তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে এখন আর তেমন প্রতিক্রিয়া হয় না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হলেও অল্প দিনের মধ্যেই তারা পার পেয়ে যায়। মাঠপর্যায়ের অসৎ পুলিশ সদস্যরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে থানায় বসে মাদক ব্যবসায় করতেও তারা ভয় পাচ্ছে না। নিরপরাধ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। চেহারা ছবিতে ধর্মপ্রাণ হলে জেএমবির মামলার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়ার পরেও ওই সব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
খিলগাঁও রেলগেটের পাশে নয়ন মোটর নামে একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক বাদল হোসেনকে (২২) পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করেন সবুজবাগ থানার এএসআই কামরুজ্জামান। গত রোববার রাতে ওই গ্যারেজ থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশ তল্লাশির নামে বাদলের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খিলগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশ বলেছে তাকে মুগদা বিশ্বরোড থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও ওই বিষয়ে কোনো তদন্তই হয়নি। উল্টো বাদল এখন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বাদলের ভাই বলেছেন, পাশের এক গ্যারেজ মালিকের সাথে ঝগড়ার সূত্র ধরেই বাদলকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।
সাভার মডেল থানার এসআই পল্টু ঘোষসহ কয়েক সদস্য মিলে থানা কম্পাউন্ডে ফেনসিডিল রেখে ব্যবসায় করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় থানা এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত ফেনসিডিলের বেশির ভাগ তারা নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। পরে তা গোপনে বিক্রি করা হতো। কিছু পুলিশ সদস্য এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যে, সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তোয়াক্কা করছেন না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গায়ে হাত তুলতেও তারা চিন্তা করছেন না। থানার সামনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে ফেনী মডেল থানার ওসি নাজিম উদ্দিন ফেনী সদরের এসি ল্যান্ড নজরুল ইসলামকে থানার ভেতরে নিয়ে মারধর করেন। ওসি নিজ হাতে এসি ল্যান্ডকে মারধর করেন। রমনা থানার এসআই সালাউদ্দিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না পেয়ে সম্প্রতি দুই যুবককে চোর বানিয়ে জেলখানায় পাঠায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরকে ডাকাত বানিয়ে থানায় মারধর করে জেলখানায় প্রেরণের ঘটনায় খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি হেলাল উদ্দিন এখন জেলে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ঢাকার অদূরে আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার সাথে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও তারা এখনো বহাল তবিয়তে।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা গতকাল একটি মিটিং করেছেন। সেখানে পরিবহন নেতারা বলেছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে। পরিবহন মালিকদের নেতা রুস্তম আলী খান বলেছেন, পুলিশ রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে দায়মুক্তি সংস্কৃত, প্রত্যেক সরকারের আমলে পুলিশকে দলীয়ভাবে ব্যবহার এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে পুলিশ দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশকে আরো বেপরোয়া করে তুলেছে সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে।
বিচারপ্রার্থী তরুণীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পরিবার : আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী তরুণীকে বাবা-মায়ের সামনে থেকে ধরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং পরে তাদের থানায় নিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর তৎপরতার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে গোটা দেশে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় বিব্রত পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। এর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার পরিবারটি। জনমনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নির্যাতিত এই পরিবারটি সঠিক বিচার পাবে কি না। এর আগেও আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ কর্তৃক পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল শিশু তানিয়া। ওই ঘটনাও ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে পার পেয়ে যান জড়িত পুলিশ সদস্য।
এ দিকে পুলিশ কর্তৃক শ্লীলতাহানির ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যার পরে থানায় যান ঘটনার শিকার তরুণী। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাবা, মা এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একজন প্রতিনিধি। এ ব্যাপারে রাত ৮টায় কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত অফিসার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয় কেউ থানায় মামলা করেনি। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার নিম্ন আদালত চত্বরের পাশে পুলিশ কাবের ভেতরে ঢুকিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ফারজানা নামে এক বিচারপ্রার্থী তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার দিলে
আইনজীবী ও আশপাশে দায়িত্বরত সাংবাদিকরা এগিয়ে যান। তখন ওই তরুণীকে পুলিশ জোর করে থানায় ধরে নিয়ে যেতে চাইলে সাংবাদিক ও আইনজীবীরা বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর হামলে পড়ে পুলিশ। এতে তিন সাংবাদিক ও কয়েকজন আইনজীবী গুরুতর আহত হন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তোপের মুখে পড়ে দুই এসআই জামান ও জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা লালবাগ বিভাগের এসি রাজিবকে অন্তর্ভুক্ত করে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে পুলিশ। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অবশ্য তদন্ত কমিটির সময়সীমা গতকাল সন্ধ্যায় পার হয়ে গেছে।
ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তরুণী তার বাবা ও মায়ের সাথে মোটরসাইকেলে আদালত থেকে বের হচ্ছিলেন। তিনি স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে এসেছিলেন। মোটরসাইকেলটি পুলিশ কাবের সামনে গেলে পুলিশ গতি রোধ করে। মোটরসাইকেলটি চোরাই অজুহাত দিয়ে তরুণীর বাবাকে থানায় নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। তরুণী এর প্রতিবাদ জানালে অশ্লীলভাবে তরুণীকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পুলিশ কাবের ভেতরে নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। তারা ওই তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাম্যানরা সাংবাদিকদের লাঠিপেটার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ভালো করে ভিডিও করেন! একপর্যায়ে পুলিশ ওই তরুণী ও তার মা-বাবা এবং দুই আইনজীবীকে জোর করে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায়।
তরুণীর বাবা ফারুক হোসেন জানান, তাকে পুলিশ ব্যাপক মারধর করে। সেই সাথে কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার আঙুল দিয়ে তার চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা করেন। তার নামে ডাকাতি মামলা দেয়া হবে বলেও তাকে হুমকি দেয় পুলিশ। মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে ফারুক তার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। তিনি বলেন, পুলিশ যেকোনো সময় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করতে পারে।
এ দিকে তরুণী ফারজানা বেগম ও তার মা-বাবাকে জিম্মায় নিয়েছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। ঘটনার রাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে তরুণী ও তার বাবা-মাকে জিম্মায় নেন। সুলতানা কামাল সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিত তরুণী গত রাতে মামলা করতে কোতোয়ালি থানায় যান।
বিচারপ্রার্থী তরুণীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় এসআই জামান ও জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। তদন্ত কমিটির দুই সদস্য হচ্ছেনলালবাগ বিভাগের এডিসি মারুফ হোসেন ও কোতোয়ালি বিভাগের এসি রাজিব আল মাসুদ। তবে অভিযোগ উঠেছে তরুণীকে শ্লীলতাহানির খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের মারধর করা হয়েছে ওই এসি এবং থানার ওসির নির্দেশেই। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একই সাথে এ ঘটনায় গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির একজন হচ্ছেন এসি রাজিব আল মাসুদ। এ অবস্থায় ঘটনার তদন্ত নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: নয়া দিগন্ত
Add Your Comment
জাতীয়
- পদ্মা ঋণচুক্তি বাতিলের জন্য কোন এক ব্যক্তি দায়ী- শেখ হাসিনা
- জনতা ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা লোপাট
- ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- প্রেসবাংলার সকল গ্রাহক, শুভাকাঙ্খিদের জানাই আন্তরিক দুtখিত।
- চার দিকে পুলিশ আতঙ্ক!!!
- রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ মন্ত্রীও
- ‘পুলিশকে সাংবাদিক থেকে দূরে থাকতে বলুন’
- আজ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী
- হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আজ ঘোষণা হচ্ছে সুবিধাভোগী শিল্প প্রতিষ্ঠানের (কিউক শ্রেণী) বিদ্যুতের দাম
শীর্ষ সংবাদ



















