শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ২৪ মে ২০১৩;
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারঃ   মুহুর্তের সংবাদ :
রাবিতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে চাঁদাবাজি ছিনতাই
রাবিতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে চাঁদাবাজি ছিনতাই

২৯ মে, একে তুরফান, রাবি  (প্রেসবাংলা২৪.কম) :: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে চলেছে চাঁদাবাজি ছিন্তাই। এ সকল চাঁদাবাজি ছিমত্মাইয়ের অভিযোগের তীর রাবি শাখা ছাত্রলীগের দিকে। গত দুই মাসে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি, ছিমত্মাই ও মোবাইল ম্যানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে। কখনো কখনো নিজ দলের কর্মীদের কম্পিউটার ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রয়েছে। আবার চাঁদা না দেয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে শিবির আখ্যা দিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফেন্সিডিল হেরোইন আর মদ গাঁজা খাওয়ার টাকা যোগাতেই এ ধরনের ছিমত্মাই চাঁদাবাজির আশ্রয় নিচ্ছে বলে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীর কাছ থেকে জানা যায়।

জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শেষ আখড় গোছাতে উঠে পড়ে লেগেছে। গত দুই মাসে ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর, ইবলিস চত্বর, শহীদ মিনার চত্বর এবং বিজ্ঞান ভবনগুলোর পেছন থেকে অন্তত অর্ধশতাধিক মোবাইল ম্যানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বান্ধবীদের সাথে দেখলেই তাদের উপর চড়াও হয়ে মোবাইল ম্যানিব্যাগ কেড়ে নেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে খেতে হয় চড় থাপ্পড়। এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যা দিয়ে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ম্যানিব্যাগ। আর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হল থেকে বের করে দেয়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেরে বাংলা এ কে ফজলুর রহমান হল, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ বিভিন্ন হলে চাঁদাবাজি ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করে কোন ফল পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত থাকলেও তা অস্বীকার করেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক।

অতি সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিম্নরূপ:    

২৭ মে:

শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগ কর্মী নাসিম হত্যার অন্যতম আসামী রুহুল আমিন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) , ছাত্রলীগকর্মী মামুন  (ফোকলোর)  ও হাসান ( ফোকলোর)  ওই হলের ৩১৫ নং কক্ষক্ষর আবাসিক ছাত্র শাহাদত হোসেনের (পরিসংখ্যান বিভাগ) কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে তার কাছে থাকা দু’হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর দুইদিন আগে একই হলের ৩৩৪ নং কক্ষক্ষর এক আবাসিক ছাত্রের কাছ থেকে ৩টি পেনড্রাইভ, মডেম, মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীরা।

২৩ মে:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখ্দুম আবাসিক হলের ২৩৩ নং কক্ষক্ষর ফলিত গণিত বিভাগের মাস্টাসের শিক্ষার্থী সুমন এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাগের দুইটি কম্পিউটার চুরি হয়। এ ঘটনার পরপরই হলের কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দায়ি করে হলের ভিতরে বিক্ষোভ করে। এঘটনার দায় এড়াতে ওই রাতেই হলের ছাত্রলীগ নেতা রুহুল আমিন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), মামুন (ফোকলোর), আশিষ, তাকিমসহ ১০/১২জন ছাত্রলীগকর্মী সাধারণ শিক্ষার্থী সামিউল- দর্শন (কক্ষ-২৩৪ ), সোহাগ- লোকপ্রশাসন (কক্ষ-২৩৩) সুমন- গণিত মাস্টার্স (কক্ষ-২৩৩ ) ইসমাঈল- বাংলা ৪র্থ (কক্ষ-২৩৩ ) কামরুজ্জামান শাহিন ফলিত গণিত শেষ(কক্ষ-২৩৪ ) সাইদুর লোকপ্রশাসন ৩য় বর্ষ (কক্ষ-২৩৪) আরিফ ১- হিসাব বিজ্ঞান ৮ম সেমিষ্টার(কক্ষ-২৪১ ) আরিফ ২-(কক্ষ ) জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করে এবং হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়।

২০ মে:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আহমেদ আলীর ছোট ভাই মেহেদীর নিজ কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন এবং মানি ব্যাগ হারিয়ে যায়। এ চুরির ঘটনায় মেহেদী তার রুমমেট ও ছাত্রলীগকর্মী ফরহাদকে দায়ী করে। এঘটনার এক পর্যায়ে মেহেদী তার ফোন ও মানি ব্যাগ বের করে দেয়ার জন্য ছাত্রলীগ ক্যাডারতানিমের কাছে নালিশ করে। পরে ওই দিন রাতেই মেহেদী, রাসেল, তানিম, তুহিন, দিগন্ত, জাকারিয়া, রানা, বিপ­ব ও আনোয়ারসহ আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ফরহাদকে মাদার বখ্শ হলে ডেকে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে হল থেকে বের করে দেয়।

০৩ মে:

সকাল ৮টার দিকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র হুযায়ফা কলা ভবনের সিড়ির নিচে সাইকেল রেখে ক্লাসে যায় । ক্লাস থেকে ফিরে তার সাইকেল নিয়ে এক যুবক  গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে চোরকে মারপিট করে শিক্ষার্থীরা। এর আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রী ক্লাস শেষ করে তার ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে কাজলার দিকে যাচ্ছিল । সে জুবেরী ভবনের মাঠে পৌছলে আমিনুল ইসলম (২০) পথ আগলে তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে  নিয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত জনতা তাকে ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

১৯ এপ্রিল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২১৯ নম্বর কক্ষ থেকে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাহিদের ল্যাপটপ চুরি হয়। চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২০ নং কক্ষের ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুলকে দোষী সাব্যসত্ম করে তাকে বেড়ানোর কথা বলে চারঘাটের পদ্মার পাড়ে ডেকে নিয়ে যায়।  রাসত্মায় যাওয়ার সময় জাহিদের ল্যাপটপ চুরির দায়ভার স্বীকার করতে বলে। আশরাফুল এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চারঘাটের পদ্মা পাড়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে চারঘাট থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ১০ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর আগের দিন একই হল থেকে একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।  সাইকেলের মালিক জানান, অনার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বঙ্গবন্ধু হলের নিচ তলায় সাইকেলে তালা দিয়ে আমি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাই। বাড়ি থেকে ফিরে এসে যথাস্থানে সাইকেল না পেয়ে আমি ছাত্রলীগ ভাইদের কাছে এ ঘটনা বললে তারা আমাকে খুজে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাইকেলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

১৩ এপ্রিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদা না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওই শিক্ষার্থীর নাম রঞ্জন কুমার রায়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানিমেল হাজব্রেন্ডারী এন্ড ভেটোনারী সায়েন্স বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র।

ভুক্তভোগী জানায়, রঞ্জন ও ছাত্রলীগ কর্মী শুভ হলের পাশাপাশি রুমে থাকার ফলে তাদের মধ্যে ভালো সর্ম্পক ছিল। ওই সম্পর্কের খাতিরে রঞ্জনের কম্পিউটারে রঞ্জনের বান্ধবীর ছবি দেখে ছাত্রলীগ কর্মী শুভ’র পছন্দ হয়। কিন্তু মেয়েটি শুভকে অপছন্দ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে শুভ রঞ্জনের কাছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। রঞ্জন ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে বুধবার রাতে রঞ্জন তার কয়েক সহপাঠী ছাত্রলীগ কর্মীর সহায়তায় রঞ্জনকে বেধড়ক পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কিছু কিছু ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ছাত্রলীগের নামধারী কিছু উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগকে হয়রানি করার জন্য এ সকল কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রাবি প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ক্যাস্পাসে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
CommentAdd Your Comment
শীর্ষ সংবাদ


প্রচ্ছদ | ৬৪ জেলার সংবাদ | রেডিও সংবাদ| গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট