বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২০; ২০ জুন ২০১৩;
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারঃ   মুহুর্তের সংবাদ :
লক্ষ্মীপুরে লতিফপুর গ্রামে সন্ত্রাসীদের হামলা ,ভাংচুর, লুটপাট, আহত-২
লক্ষ্মীপুরে লতিফপুর গ্রামে সন্ত্রাসীদের হামলা ,ভাংচুর, লুটপাট, আহত-২

এলাকায় উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

 ১৪ মে, ২০১২ লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের সন্ত্রাসীদের পৃথক পৃথক হামলায় ৬ টি ঘরে  হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে  রোববার রাতে এ হামলার  ঘটনা ঘটে।  হামলার পর থেকে এলাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।

চন্দ্রগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি সহ অন্যান্য কেন্দ্রিয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আনোয়ার হোসেন বাচ্চু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষ হবার পর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী নাছির বাহিনীর প্রধান নাছির, তার সহযোগী মোঃ হামিম, মহসিন ও আনোয়ার হোসেন বাচ্চু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জিসানের বাড়ীতে গিয়ে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে এয়াকুব আলী বাড়ীর আবুল কাসেম, আবুল গোফরান আহত হয়।

সন্ত্রাসীরা এসময় একই বাড়ীর মোঃ কামাল, মোঃ রিংকু, সিরাজুল ইসলাম,আবুল কাসেমের ঘর সহ মোট ৫ টি ঘরে হামলা ও ভাংচুর ও লুটপাট  করে।

এসময় তারা প্রায় ঘন্টাব্যাপি এ বাড়ীতে তান্ডব চালায়। পরে যাওয়ার সময় স্থানীয় মোঃ হেলালের দোকান ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে।

 এদিকে হামলার সময় জিসান বাড়ীতে ছিলনা পরে খবর পেয়ে সে তার দলবল নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রতিপক্ষ নাছির বাহিনীর সহযোগী মোঃ হামিম এর বসত ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। অগ্নি সংযোগে প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।

 সন্ত্রাসীরা এসময় হামিমের ২ টি বসত ঘরে হামলা করে।একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হামিমের পিতা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, জিসান ও নোমান বাহিনী দলবল নিয়ে তার বাড়ীতে এসে অগ্নি সংযোগ করে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এদিকে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের কারনে রাতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে রাতে ঘরের দরজা জানাল বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে।

খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা বর্তমানে থম থম অবস্থা বিরাজ যে কোন সময় ফের নাছির, হামিম ও জিসান গ্রুপের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে।

চন্দ্রগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আবুল বাশার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি নাছির মোবাইলে জিসান কে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনার জের ধরে গত বৃহংস্পতিবার নাছিরের বাড়ীতে হামলা করে জিসান গ্রুপ।

 এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গতকাল আবার নাছির তার দলবল নিয়ে জিসানের বাড়ীতে মোট ৫ টি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।পরে আবার জিসান তার দল নিয়ে নাছিরের সহযোগী হামিমের বাড়ীতে  অগ্নিসংযোগ ও হামলা করে।

 তবে বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ২ গ্রুপে মধ্যে পাল্টা পাল্টি হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি কেউ গ্রেফতার ও হয়নি।

CommentAdd Your Comment
অপরাধ

শীর্ষ সংবাদ


প্রচ্ছদ | ৬৪ জেলার সংবাদ | রেডিও সংবাদ| গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট