বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২০; ২০ জুন ২০১৩;
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারঃ   মুহুর্তের সংবাদ :
ব্লক ফিশারীর নামে নদী ইজারা, ৫ শতাধিক মৎস্যজীবী বেকার
ব্লক ফিশারীর নামে নদী ইজারা, ৫ শতাধিক মৎস্যজীবী বেকার

১৬ মে, ফেনী প্রতিনিধি :: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ও রাজাপুরে ব্লক ফিশারীর নামে ছোট ফেনী নদীর একটি অংশ ইজারা দেয়ায় মাছ ধরতে না পেরে বেকার হয়ে পড়েছে এলাকার ৫ শতাধিক মৎস্যজীবী। এতে করে নদী সংলগ্ন ৫ গ্রামের মৎস্যজীবী পরিবারের লোকজন মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ব্লক ফিশারীর নামে উপজেলার সিন্দুরপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উক্ত নদী ইজারা নেয়। জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে বহমান ছোট ফেনী নদীটির ৮৪৬, ১৮০, ১৮৮০ অংশ ৮৫৩, ৯৫২ ও ৭৪৪ দাগে মোট ৫৩.৩৬ একর জলমহাল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ইজরা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ডুমুরিয়া ব্লক ফিসারিজ-১ এর জন্য ইজারার ২ লাখ ১ হাজার ৩শ টাকা ও ডুমুরিয়া ব্লক ফিশারিজ-২ এর জন্য ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা নির্ধারন করে। জেলা প্রশাসনের সাথে ইজারা গ্রহীতাদের চুক্তি হওয়ার আগেই তারা উক্ত জলমহাল দুটি ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় রুহুল আমিনের নিকট ইজারা দেয়।

মৎস্যজীবীরা জানান, মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নাম দিয়ে বরাবরের মত এবারও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীটি ইজারা নিলেও উক্ত সমিতিতে প্রকৃত মৎস্যজীবী নেই। তারা নদীতে জেলেদের নামতে দিচ্ছেনা। এতে নদীর পাশ্ববর্তী শরীফপুর, গৌতমখালী, রাজাপুরঘোনা, বিরলী, ডুমুরুয়াসহ অন্যান্য গ্রামের ১৫ থেকে ২০ হাজার এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মৎস্যজীবীরা বেকার হতে বসেছে। এলাকার সিরাজ মিয়া, বেলাল হোসেন, আবুল কালাম, চানমিয়া, হীরা লাল চন্দ্র দাস, শ্রীধাম চন্দ্র দাস, নেপাল চন্দ্র দাস, জীবন চন্দ্র দাস, হরলালচন্দ্র দাস সহ অর্ধশতাধিক জেলে ওই নদীটি ইজরা না দিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন দিয়েছে। জেলা প্রশাসককে তারা জানান, ওই নদীতে নিয়মিতই জোয়ার-ভাটা হয়। এখানে ব্লক ফিশারীজের কোন চিহ্নও নেই। একটি মহল মৎস্যজীবীদের পেটে লাথি দিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে নদীটি গ্রাস করছে।

রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ভূইয়া ছোট ফেনী নদীর ওই অংশে কোন ব্লক ফিশারীর অস্তিত্ব না থাকার কথা নিশ্চিত করে বলেন, তিনিও নদীটি ইজরা না দিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম শওকত ইকবাল শাহীন অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন।

শ্রীগ্রই ইজারা বন্ধ না করা হলে অবলিম্বে বেকার ওয়ে পড়া ৫ শতাধিক জেলেরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
CommentAdd Your Comment
জনপদ

শীর্ষ সংবাদ


প্রচ্ছদ | ৬৪ জেলার সংবাদ | রেডিও সংবাদ| গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট