১৪ মে, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পার হলেও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মডেল থানা ভবণ নির্মানের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীতে পড়ে আছে। জানা যায়, বিগত ২০০৮ সালের ১৮ জুন ১৫টি থানাকে মডেল থানায় রুপান্তরের উদ্দেশ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি থানায় নির্ধারিত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ১৪টি থানার কাজ সমাপ্ত হলেও কোটচাঁদপুর থানা আজও মডেল থানায় রুপান্তরিত হয়নি। যার ফলে, নানা সমস্যায় জর্জরিত কোটচাঁদপুর মডেল থানা। ৩ লক্ষাধিক মানুষের বসবাসরত উপজেলায় সেবা পাবার স্থান এখন জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি। ফাটা দেওয়াল বিশিষ্ট এই থানায় রয়েছে ২৫ জন কন্সটেবল’র স্থলে ১৭ জন, ৭ জন এসআই থাকার পরিবর্তে ৩ জন, ৪জন এএসআই’র স্থলে আছে ২ জন এবং একজন কর্মকর্তা। যানবাহন বলতে আছে একটি পিকআপ তাও আবার সপ্তাহের ৩ দিনই থাকে নষ্ট। ষ্টাফদের দৈনন্দিন খাওয়া দাওয়া সংকট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। একটি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ থানাটি সংরক্ষণ জরুরী বলে মনে করেন এ থানায় কর্মরত পুলিশ ও এলাকার সচেতন জনগন। ৩ লক্ষ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন। নানা সমস্যায় জর্জরিত থেকেও নিজেদের বিশ্রাম নেবার স্থানটুকুও নেই বললেই চলে। পুলিশ ব্যাপাক বলকে একটি মাত্র টিনের চৌরি করা ঘর যা একটু বর্ষা হলেই পানি পড়ে। কন্সটেবলদের বেডে গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে ঘুমাতে হয়। খাবার স্থান একেবারেই নেই। ডিউটি সেরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে খাবার খেতে হয়। আছে মাত্র ১টি টিউবয়েল, গোসলখানা বলতে কিছুই নেই, নেই ভাল বাথরুমও। সরকারী চাকুরীরত কোন সুইপারও নেই এ থানায়। এসব সমস্যা উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে বলার সাহসও নেই এখানকার পুলিশের। কন্সটেবলদের কাছে কিছু জানতে চাইলে তারা একেবারেই মুখ খুলতে চায়না। তারা বলে বলার অধিকার নেই তাদের সমস্যার কথা। কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে থাকেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন পৌরসভার ঘরে। এসব কর্মকর্তারা অনেক সময় কর্তব্য পালন করে এসে নিজেদের চেয়ার টেবিলের উপরেই ঘুমিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা বলতে খাওয়া গোসল সব মিলিয়ে ওই ১টিই টিউবয়েল। বাইরে থেকে বড় অফিসাররা যদি থানায় আসেন তবে তাদেরকে বাইরে থেকে পানি এনে খাওয়াতে হয়। চিত্ত বিনোদনের জন্য দীর্ঘদিন ছিলনা কোন টেলিভিশন। ঢাকা কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মিল্লাত কোটচাঁদপুর থানায় একটি টেলিভিশন দান করেন। পুলিশ সদস্যদের খেলাধূলার জন্য কোন সরঞ্জাম নেই। রাতদিন ভর পরিশ্রমের পর দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে ভাঙাচুরা বেডে ঘুমাতে যেতে হয় তাদের। অপেক্ষায় থাকতে হয় থাকতে হয় উপরি মহল থেকে কখন তাদের ডাক আসবে। এ থানায় রয়েছে যানবাহনের সমস্যা। রাতে ডিউটি করতে মাইক্রো সমিতির কাছ থেকে তেলের দাম দিয়ে একটি গাড়ি, ট্যাম্পু মালিকদের কাছ থেকে দু’টি ট্যাম্পু নিয়ে নিজেদের টাকায় ডিউটি করতে হয়। অনেক সময় রাস্তায় এসব যানবাহনের ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দিলে পুরুষ সদস্যদের সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সহ নানা রকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একটি হাইওয়ে সড়কে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে দায়িত্বপালন করতে হয় এসব পুলিশদের। রাতের বেলায় পৌর শহরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি রোধের জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৫ জনের একটি করে দলের টহল দিতে হয়। কোটচাঁদপুর থানার অধীনে রয়েছে ৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও ১টি ফাঁড়ি।
Add Your Comment
- গফরগাঁওয়ে পাগলা থানা উদ্বোধনের প্রতিবাদে এমপির গাড়ী ভাংচুর; ফাঁকা গুলি
- অচিরেই সকলের মতামতের ভিত্তিতে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করবে -বন ও পরিবেশ মন্ত্রী
- ব্লক ফিশারীর নামে নদী ইজারা, ৫ শতাধিক মৎস্যজীবী বেকার
- ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা; অসহনীয় লোড শেডিং-এ জনজীবন নাকাল
- কোটচাঁদপুর নামে মাত্র মডেল থানা; ভবণ নির্মাণের টাকা পড়ে আছে গণপূর্ত অফিসে
- সওজ বিভাগের জমিনের উপর বহুতল ভবন নির্মাণ জনচলাচলে বাধা সৃষ্টি
- উদ্ধোধনের অপেক্ষায় তিস্তা সড়ক সেতু
- ময়মনসিংহে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
- চুল বিক্রী হচ্ছে লাখ টাকায়,যাচ্ছে বিদেশে, চলছে সংসার
- ডোমারে স্থবির হয়ে পড়েছে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ছে অপরাধ



















