১৮ মে, পাবনা প্রতিনিধি :: বেশী লাভের আশায় দেশের কতিপয় ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে হাইড্রোজেন যুক্ত ‘র’-চিনি আমদানি করে অবাধে বিক্রি করছে। এতে একদিকে দেশি চিনি অবিক্রিত থেকে ১৫ টি চিনিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত চিনি ও চিনি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি ও খাদ্যদ্রব্য খেয়ে অনেক মানুষকে নানা রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। বিদেশি চিনি আমদানির ফলে শুধু পাবনা চিনি মিলে ৪১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত পড়ে আছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাবনা চিনি মিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদেশী ঋণসহ নানা কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মিল প্রশাসন। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কতিপয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের আখের গোছানোর স্বার্থে বিদেশ থেকে কমদামে, অনুন্নত হাইড্রোজেন যুক্ত চিনি আমদানি ও বিক্রি করে শ’ শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশিয় মিলগুলিতে উৎপাদিত উন্নত মানের চিনি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারা না বুঝেই কিছু কম দাম পেয়ে বিদেশি চিনি কেনার প্রতি ঝুকে পড়েছে। একই সাথে মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্ত্ততকারী প্রতিষ্ঠান গুলোও বিদেশি চিনি ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকভাবে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। পক্ষান্তরে ওই সব চিনি দিয়ে প্রস্ত্ততকৃত মিষ্টিসহ নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য খেয়ে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সূত্র মতে, বিদেশি চিনি আমদানি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী-ডিলার কর্তৃক মিল থেকে চিনি না কেনার কারণে শুধু পাবনা চিনি মিলে ৪১ কোটি ১২ লাখ ৩ হাজার টাকার ৭ হাজার ২৯৪ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন চিনি অবিক্রিত রয়েছে । এতে করে মিল প্রশাসন চরমভাবে আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। গত প্রায় দু’মাস থেকে মিল প্রশাসন কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেতন দিতে পারছেন না। সরকারিভাবে ঋণ পাওয়া না গেলে আদৌ বেতন দেওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা থেকে মিলকে রক্ষা করার জন্য মিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ডিলারদের মধ্যে দেশাত্ববোধের ঘাটতি না থাকলেই তারা দেশিয় প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা এবং দেশের জনগণকে সুস্থ্য রাখতে মিল থেকে উন্নতমানের চিনি কিনতে আগ্রহী হবেন। একই কারণে গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল চিনি মিলেও প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ১১ হাজার ৭শ’ মেট্রিক চিনি অবিক্রিত রয়ে গেছে। চরম অর্থাভাবে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বন্ধ রয়েছে। এই মিল থেকেও ব্যবসায়ী ও ডিলারদের চিনি কেনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে দেশাত্ববোধ সৃষ্টি করতে হবে এবং উন্নত মানের দেশিয় চিনি ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। চক চক করলেই যেমন সোনা হয় না, তেমনি বিদেশী চিনি বেশি সাদা দেখলেই স্বাস্থ্যসম্মত হয় না বলেও ওই মহলটি মনে করেন।
এ ব্যাপারে পাবনা চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল সালাম ৪১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত এবং ২ মাসের বেতন বন্ধের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকার এ সমস্যা কাটাতে চেষ্টা করছে।
Add Your Comment
- পাবনা সুগার মিলে ৪১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত : দুই মাস বেতন বন্ধ
- মোটরসাইকেল ইঞ্জিন ও ফ্রিজের কম্প্রেসার তৈরি করবে ওয়ালটন
- অদ্ভুত এক দুর্নীতির সন্দেহে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ করা যাবে না- মুহিত
- বেনাপোল কাস্টমসে অতিরিক্ত কমিশনারের দুইটি পদসহ ১৫২টি পদ দীর্ঘদিন খালি
- বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১০ মাসে ২২১ কোটি টাকার ইলিশ রফতানি ভারতে
- থ্রিজি’র আগে টুজি লাইসেন্সের নবায়ন চায় গ্রামীণফোন
- সরকারি ছুটিতেও রোববার বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি চালু থাকবে
- ঠাকুরগাঁও সুগারমিলে বিপুল পরিমান চিনি অবিক্রিত অর্থাভাবে কর্মচারীদের বেতন ও চাষীদের আখের মূল্য পরিশোধ হয়নি
- বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি এফবিসিসিআই’র
- নোট জালিয়াত চক্র ধরতে মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক



















