০৯ মে, বেনাপোল প্রতিনিধি (প্রেসবাংলা২৪.কম) :: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজ লোকবল সঙ্কটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে এখানে কাজে গতি আসছে না। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী। কেন না বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩৫০ ট্রাক মালামাল আমদানি ও ২৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। এত বিপুল পরিমান পণ্য খালাশ কাস্টমস কর্মকর্তাদের করতে হয়। যে কারণে কাজের চাপ আছে অজুহাতে আমদানি-রফতানিকারকদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা। অবশ্য টাকা দিলে সব কাজই দ্রুত হয়ে থাকে সেখানে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজ সূত্রে জানা গেছে, এখানে গুরম্নত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনারের দুইটি পদসহ মোট ১শ‘ ৫২টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে আছে। বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম শ্রেণী থেকে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে ৩শ‘ ৩৯টি। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ১শ‘৮৭জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর পদ আছে ৪৪টি। কর্মরত আছে মাত্র ২৫জন। ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। ২য় শ্রেণীর পদের সংখ্যা ১২৪টি। কর্মরত আছেন অর্ধেক ৭২জন। শূন্য পদ আছে ৫২টি। তৃতীয় শ্রেণীর পদ রয়েছে ১৫৩টি। কর্মরত আছেন ৮৫ জন। খালি আছে ৬৮টি পদ এবং ৪র্থ শ্রেণীর পদের সংখ্যা ১৮টি। সেখানে কাজ করছে ৫ জন। ১৩টি পদ রয়েছে শূন্য। এদের মধ্যে কমিশনার থেকে রাজস্ব কর্মকর্তারা হলেন প্রথম শ্রেণীর। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা হলেন দ্বিতীয় শ্রেণীর। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী যারা আছেন তারা হলেন করণিক। আর ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা হলো এমএলএসএস ও সিপাই।
এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় বেনাপোল কাস্টমসে কাজের গতি আসছে না। আবার অনেক কর্মকর্তার উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। অতিরিক্ত কমিশনার না থাকার কারণে দু’জন যুগ্ম কমিশনারকে তার কাজ করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএন্ডএফ এজেন্ট জানান, লোকবল সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে বেনাপোল কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। টাকা না দিলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধির কাজ আটকে দেয়া হচ্ছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, লোকবল সঙ্কটের কারণে বেনাপোল কাস্টমসে গতি আসছে না। পণ্য খালাশ বিলম্বিত হচ্ছে।
যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান জানান, কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকবল সঙ্কটের অজুহাতে পণ্য খালাশ করতে দেরি করাচ্ছে। যদি শূন্য পদ পূরণ হয় তাহলে সে সমস্যা আর থাকবে না। কাস্টমস প্রশাসনে কাজের গতি আসবে। সেই সাথে পণ্য খালাশ দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে। সরকার এখান থেকে প্রতি বছর অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকেন। তাই ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বেনাপোল কাস্টমসে শূন্য পদ পূরণ করে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নজর দেয়া উচিত।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, সম্প্রতি এনবিআর থেকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেনাপোল কাস্টমসে পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে যে লোকবল আছে তা দিয়ে কাজের জন্য কোন সমস্যা হচ্ছে না। এমনকি পণ্য খালাশও দ্রুত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
Add Your Comment
- পাবনা সুগার মিলে ৪১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত : দুই মাস বেতন বন্ধ
- মোটরসাইকেল ইঞ্জিন ও ফ্রিজের কম্প্রেসার তৈরি করবে ওয়ালটন
- অদ্ভুত এক দুর্নীতির সন্দেহে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ করা যাবে না- মুহিত
- বেনাপোল কাস্টমসে অতিরিক্ত কমিশনারের দুইটি পদসহ ১৫২টি পদ দীর্ঘদিন খালি
- বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১০ মাসে ২২১ কোটি টাকার ইলিশ রফতানি ভারতে
- থ্রিজি’র আগে টুজি লাইসেন্সের নবায়ন চায় গ্রামীণফোন
- সরকারি ছুটিতেও রোববার বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি চালু থাকবে
- ঠাকুরগাঁও সুগারমিলে বিপুল পরিমান চিনি অবিক্রিত অর্থাভাবে কর্মচারীদের বেতন ও চাষীদের আখের মূল্য পরিশোধ হয়নি
- বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি এফবিসিসিআই’র
- নোট জালিয়াত চক্র ধরতে মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক



















