১১ মে, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি (প্রেসবাংলা২৪.কম) :: চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের দাম কম থাকলেও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কৃষি উপকরণ হাটে বাশেঁর তৈরী কৃষি উপকরণ- গোলা,কুলা, ডাইল্যা, ডুলি, টুকরী, কাঁচি, পস্নাস্টিকের বসত্মায় তৈরী ত্রিপাল সহ অন্যান্য কৃষি উপকরনর মূল্য আকাশচুম্বী। তার পরও প্রয়োজনের তাগিদেই জমে ওঠেছে কৃষি উপকরণের হাট।
গৌরীপুর উপজেলা সদরের ধানের বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রতিমন ধান ৪১০টাকা থেকে ৫২০টাকায় বেচা-কেনা হচ্ছে। বোকাইনগর ইউনিয়নের বৃ-বরভাগ গ্রামের কৃষক ধান বিক্রেতা সৈয়দ আনোয়ারম্নল হক জানান- সরকার ১৮টাকা কেজি ধানের দর বেঁধে দিলেও এখন পর্যমত্ম সরকারী গুদামে ধান কিনা শুরম্ন হয় নাই। তা ছাড়া সরকার দলীয় নেতাদের প্রভাবে আমাদের মতো কৃষকেরা সরাসরি গুদামে ধান বিক্রয়ও করতে পারবেনা। তাই বাধ্য হয়েই এই দরে ধান বিক্রি করছি। তিনি আরো জানান, একমন ধানের দাম আর একটি ২০০বর্গ ফুট ত্রিপালের দাম সমান।
উপজেলা সদরের উত্তর বাজার ও শহীদ হারম্নন পার্কে জমে উঠেছে ত্রিপালের হাট। পস্নাস্টিকের ২০/৩০টি বসত্মায় তৈরী ১টি ত্রিপালের মূল্য পূর্বে ১২০/১৩০টাকা হলেও এবার ওই ত্রিপালের মূল্য ৪২০/৪৫০টাকা। ত্রিপাল ব্যবসায়ী হারম্নন মিয়া জানান, এবার বসত্মা বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে তাই ত্রিপালের মূল্য বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে মধ্যবাজারে বসেছে গোলা,কুলা, ডাইল্যা, ডুলি, টুকরী আর ধান কাটার কাঁচির হাট। হাটে উপকরন থাকলেও নেই কৃষকের ক্রয় ক্ষমতা। কৃষক আঃ আলী জানান, ২৫মন ধান ধরে এমন একটি গোলা পূর্বে ১৫শ টাকায় কিনলেও বর্তমানে তার মূল্য ২৬শ টাকা। বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, ১টি গোলা বানাতে ৬জন মহিলা ও ২জন পুরম্নষ শ্রমিকের ১দিন সময় লাগে। বাঁশের দামও বেশি তাই ২৬শ টাকার কম বিক্রি করা সম্ভব নয়। বাজার ঘুরে দেখা যায়- এক জোড়া দাঁড়ির মূল্য ১৪০ থেকে ১৬০টাকা, প্রতিটি কুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকায়, ১৫ থেকে ২০কেজি ধানের ডাইল্যা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০টাকায়। ধান কাটার ১টি কাঁচির দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০টাকা। কৃষি উপকরণের মূল্য আকাশচুম্বি হলেও কৃষকের উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য অনেক কম হওয়ায় কৃষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উপকরন ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে প্রায় ৬মাস যাবত উপজেলার ২হাজারেরও অধিক শ্রমিক কৃষি উপকরণ তৈরী করেছে। কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষি উপকরণ হাটে বেচা-বিক্রি অন্যান্য বছরের চেয়ে কম। ইজারাদার জানান, ধানের দাম কম থাকলেও ধান মাড়াই করতে কৃষকের প্রয়োজনের তাগিদেই কৃষি-উপকরণ হাট জমে উঠেছে।
Add Your Comment



















